দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ ও সাবেক বিচারক নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শুক্রবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে তার নাম ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখার জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস পুরস্কার ঘোষণা করে বলেন, পিল্লাই আন্তর্জাতিক আইনের পরিধি ও প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা পিল্লাই অসাধারণ সাহসিকতার সঙ্গে আরও বিস্তৃত আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে ভূমিকা রেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কমিটির ভাষ্য, নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের পক্ষে পিল্লাইয়ের প্রাথমিক আইনি লড়াই থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন পর্যন্ত তার কর্মজীবনে ন্যায়বিচারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
ফ্রিডনেস বলেন, পিল্লাই রাষ্ট্র ও নেতাদের জবাবদিহির আওতায় এনেছেন এবং ভুক্তভোগীদের আশার আলো দেখিয়েছেন। আইনের শাসন মেনে চলার ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইনব্যবস্থা বর্তমানে ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে ক্ষমতার রাজনীতির প্রবণতা বাড়ছে। ‘ন্যায়ের চেয়ে শক্তি প্রাধান্য পেলে তা স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে’, বলেন তিনি। পিল্লাইয়ের ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি অঙ্গীকার শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে আগ্রহীদের জন্য আশা ও অনুপ্রেরণার উৎস বলেও মন্তব্য করেন নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান।
নাভি পিল্লাইয়ের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে। দরিদ্র ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিবারে বেড়ে ওঠা পিল্লাই বাসচালকের মেয়ে। বর্ণবৈষম্যের সময়েই মানবাধিকার নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। ১৯৬৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার নাটাল প্রদেশে আইনজীবী হিসেবে নিজের চর্চা শুরু করেন। তিনি ছিলেন ওই প্রদেশে আইন পেশায় যুক্ত হওয়া প্রথম নারী। পরে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হিসেবে নিজস্ব আইনচর্চা প্রতিষ্ঠা এবং হাইকোর্টের বিচারক হওয়ার নজির গড়েন।
বর্ণবৈষম্যবিরোধীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ তাকে রুয়ান্ডাবিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে নির্বাচিত করে। আট বছর ওই ট্রাইব্যুনালে দায়িত্ব পালন করেন তিনি, যার মধ্যে চার বছর ছিলেন প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি তিনি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৮৫ বছর বয়সী পিল্লাই।
এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মনোনয়ন জমা পড়ে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন, সুদানের জরুরি সহায়তা দল, ইউক্রেনে শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা এবং দুটি আন্তর্জাতিক আদালতের নাম আলোচনায় ছিল।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। আগামী ১০ ডিসেম্বর অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে পিল্লাইয়ের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা। সুইডিশ শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রতিবছর এ পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৮৯৫ সালের উইল অনুযায়ী নোবেল পুরস্কার চালু হয়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। একাধিকবার তিনি বলেছেন, এ পুরস্কার তার প্রাপ্য। ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের মধ্যেও পুরস্কার নিয়ে তার আগ্রহ আলোচনায় এসেছে।
নাভি পিল্লাইয়ের এ পুরস্কার চলতি সপ্তাহে ঘোষিত পঞ্চম নোবেল পুরস্কার। এর আগে সাহিত্য, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স
/অ